স্মার্টফোন কিনার আগে যে সব বিষয় জানা প্রয়োজন
স্মার্টফোন কিনার আগে আমরা সচরাচর কিছু জিনিস লক্ষ্য করি না। স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনিক জীবনের নিত্য সঙ্গী হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এখন বাজারে বহু রকম ফোন এসেছে এর মধ্যে থেকে কোনটি ভাল মন্দ তা আমাদের বুঝার ক্ষমতা অনেকেরই নেই, আমরা এই স্মার্টফোন বিভিন্ন মানুষ ভিন্ন ভিন্ন কাজে ব্যবহার করে থাকি।
কেউ ছবি তোলা ,কেউ ছবি দেখা, যোগাযোগ তথ্য সংরক্ষণ, ইন্টারনেটের ব্রাউজিং ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করে থাকি, আজকাল বাজারে সব জায়গায় প্রায় মোবাইলের দোকান রয়েছে যার ফলে আপনার আমার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন হয়ে যায়। আমি আপনাদের জানাবো স্মার্টফোন কিনার আগে বিভিন্ন ভালো দিক।
পেজ সূচিপত্র :স্মার্টফোনের প্রয়োজনীয় ৮ টি বিষয় সম্পর্কে
স্মার্টফোনের প্রসেসর
একটি নতুন ফোন কিনার আগে প্রথমে আপনাকে ফোনের প্রসেসর বুঝতে হবে, কারণ একটি স্মার্টফোনের প্রসেসেরের উপর নির্ভর করে আপনার ফোনটি কেমন হবে, কারণ প্রসেসর ভালো হলে ফোন দ্রুত চলে ফোন গরম হয় না চার্জিং টাইপিং দীর্ঘ হয় ইত্যাদি বিষয় প্রসেসরের উপর নির্ভর করে, ফোনের মাদারবোর্ড একটি ছোট চিপস।
যা ফোনের বিভিন্ন ছোট-বড় কাজ করেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি
যদি স্মার্ট ফোনে ভিডিও এডিটিং গেমিং অথবা একাধিক অ্যাপ ব্যবহার করেন তাহলে ,
আপনাকে ভালো প্রসেসর দেখে ফোন কিনতে হবে। SANAPDRAGON 600-থেকে 800 সিরিজের
প্রসেসর গুলি অনেক দ্রুত কাজ করে বা APPLE A সিরিজ গুলি ভালো।
স্মার্টফোনের ক্যামেরা
আমরা সচরাচর মনে করি যে একটি ফোনের ক্যামেরা মেগাটিক্স এর বেশি থাকলেই মনে হয় ফোনটি ভালো হবে, অথবা ফোনের ক্যামেরা ভালো হবে। একটি ফোনের ক্যামেরার গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় পিকজেলের আকার, এর মত বিষয়গুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা দেখি একটি মোবাইল ফোনে ৪৮ মেগাপিক্সেল থেকে ৫০ মেগাপিক্সেল হয়ে থাকে ।এর মানে এই নয় যে এই
ক্যামেরা দিয়ে অনেক ভালো মানের ছবি উঠবে কথাটা কখনোই এমন নয়। কারণ আইফোনে মত একটি ফোন মাত্র ৮ থেকে ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ব্যবহার করা হয় অথচ তার ক্যামেরার মান এত ভালো এই ১২ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা দিয়ে অনেক সুন্দর ছবি তোলা যায়। ক্যামেরার আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়: ইমেজ সিগনাল প্রসেসর অপটিক্যাল ইমেজ সেন্সরের আকার পিক্সেলের আকার স্টাবিলাইজেশন, এইচডিআর, লেন্স, ইত্যাদি দেখে আপনাকে ফোন কিনতে হবে।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি
একটি বড় ব্যাটারি মানে তার ধারণক্ষমতা শক্তি বেশি হবে তা নয়। অনেক সময় দেখা যায় বড় মোবাইলে ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। তবে একটি জিনিস না বললেই নয় বড় স্কিনের জন্য শক্তিশালী ব্যাটারি প্রয়োজন পড়ে কারণ বড় স্কিনের জন্য বেশি ব্যাটারি সত্যি ক্ষয় করে তাই শক্তিশালী ব্যাটারির প্রয়োজন হবে।
কারণ বড় ফোনগুলি অনেক সময় ধরে চালু থাকে বা চালু রাখার জন্য। সেই জন্য
স্মার্ট ফোন কেনার আগে ফোনের বক্সে আগে ভালোভাবে দেখে নিতে হবে । যে ব্যাটারীটির
টি কত মিলি অ্যাম্পিয়ারের । একটি ব্যাটারির ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার
মিলিয়্যাম্পিয়ার বা তার বেশি হলে ভালো হয়। এই ব্যাটারীগুলি চার্জ ধরে রাখতে
পারে অনেকক্ষণ।
স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম
একটি স্মার্ট ফোন কেনার আগে অবশ্যই এন্ড্রয়েড ও এস আপনার ফোনের সফটওয়্যার কাঠামো গুলি ভালোভাবে জেনে নিবেন। অ্যান্ড্রয়েড আই ও এস দুইটি জনপ্রিয়। android ফোনে কমপক্ষে দুই বছরের সিকিউরিটি আপডেট পাওয়া উচিত। আইফোনে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার সাপোর্ট থাকে।
XIAOMI(MIUI) ,SAMSUGG(ONE UI),REAL ME(U I) এই ফোন গুলির ফিচার পারফরম্যান্স ভিন্ন হতে পারে ভারি UI ফোন ধির করতে পারে।
নেটওয়ার্ক ও কানেক্ট টিভি
বর্তমান যুগে একটি স্মার্টফোনের কমপক্ষে ৫জি সাপোর্ট যুক্ত একটি ফোন ভবিষ্যতের
জন্য ভালো হবে। আপনার এলাকায় যদি ৫ জি সাপোর্ট নাও থাকে তাহলেও আপনি ভালো চালাতে
পারবেন ফোরজির মাধ্যমে ফোরজি যদি না থাকে তাহলে থ্রিজি চালাতে পারবেন।
ডুয়েল সিম সাপোর্ট ওয়াই ফাই বুলুটুথ ফাইভ এসব ফিচার দেখা জরুরী। এছাড়াও ফোনে এন এফ সি থাকলে কনস্টেলেস পেমেন্ট সহজ হয় তাই একটি ফোন কেনার আগে খুব তৈরি করি না করে, ঠান্ডা মাথায় এসব দিক বিবেচনা করে আপনি ফোন কিনবেন তাহলে ঠকে যাওয়ার কোন চান্স থাকবে না।
স্মার্টফোনের নিরাপত্তা
এখন প্রায় সকল মোবাইলেই বাড়তি নিরাপত্তা থাকে। যেমন আইরিশ সেন্সর ফিঙ্গারপ্রিন্ট এ ফিচার গুলি ফোন লক বা আনলক এর কাজেই ব্যবহার করা হয় না বরং কোন একটা ফাইল পাসওয়ার্ড দিতে ব্যবহার করা হয়। আইরিশ স্ক্যানারের ফোন এই ফোন গুলির দাম অনেক বেশি কারণ, এই ফোনগুলি বাড়তি নিরাপত্তা ফিচার আছে। তাই এই ফোন গুলির দাম একটু বেশি হয়ে থাকে। চাইলে এই স্মার্ট ফোনগুলি ব্যবহার করতে পারেন।
স্মার্টফোনের র্যাম
একটি স্মার্টফোনের রেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি ফোনের কমপক্ষে
4gb ram হলে ভালো কাজ করা যায়। আর যদি ৬ জিবি ৮ জিবি ১৬ জিবি এরাম গুলি ভিডিও
এডিটিং এর কাজে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয় গেম খেলার
ক্ষেত্রে এই ফোনগুলি অত্যন্ত চমৎকার ভূমিকা রাখে
স্টারেজ একটি স্মার্টফোনের কমপক্ষে 64gb স্টারেজ ভালো কাজ করা যায়। ১২৮
জিবি হলে আরেকটু ভালো হয়। মাইক্রো এসডি কার্ড ফ্ল্যাট থাকলে বাড়তি সুবিধা
পাওয়া যায়।
স্মার্টফোনের IMEI নাম্বার চেক করুন
একটি স্মার্ট ফোন কেনার আগে অবশ্যই আপনাকে আই এম ই আই নাম্বারটি চেক করতে হবে
কারণ আই এম ই আই নাম্বার চেক না করলে আপনি হয়তো ঠকে যাবেন। কারণ বাংলাদেশে বা
অন্য দেশে যে মোবাইলগুলি আসে কেউ চোরাই ভাবে নিয়ে আসে সেগুলি আবার আপনার দেশের
জন্য বৈধ নয় এই কারণে চেক করে নিবেন।
দ্বিতীয়তঃ আপনার বক্সে একটি IMEI নাম্বার দেওয়া আছে অথবা মোবাইলের ব্যাটারির
নিচে একটি নাম্বার দেওয়া আছে আই এম ই আই সেই নাম্বারটি ফোনের সেটিং এর সাথে
মিলতেছে কিনা এই জিনিসটা ভালোভাবে লক্ষ্য করে নিবেন।
IMEI চেক করার পদ্ধতি
চেক করার সবচেয়ে সহজ পদ্ধতি
ফোনে ডায়ালার যাবেন সেখানে গিয়ে টাইপ করুন *#০৬# দেখবেন আপনার ফোনের সঙ্গে ও ফোনের বক্সের সঙ্গে এই নাম্বারটি মিল আছে কিনা ১৫ ডিজিটের নাম্বার চলে আসবে। আপনার মোবাইল ফোনে যদি দুইটি সিম থাকে তাহলে দুইটি নাম্বার আসবে। আর একটা পদ্ধতি ফোনের সেটিং এ গিয়ে. এবাউট ফোন এরপরে স্ট্যাটাস ওখানে গিয়ে IMEI ইনফরমেশন নাম্বার দেখতে পাবেন।
শেষ কথা
স্মার্টফোন শুধু, একটি ডিভাইস নয়, এটি এখন জীবন যাপনের অংশ তাই শুধুমাত্র দাম
দেখে নয় বরং এর চাহিদা ব্যবহারের ধরন ও ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী ফোন কেনা
উচিত। ফোন কেনার আগে একটু গবেষণা করলে আপনি সঠিক পছন্দ করতে পারবেন এবং দীর্ঘ
সময় ধরে উপভোগ করতে পারবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url